সুস্বাস্থের জন্য মধুর অনন্য ভূমিকা



আবহমান কাল থেকে বিশুদ্ধ খাবারের তালিকায় মধুর স্থান শীর্ষে । সুস্বাস্থের জন্য মধু আল্লাহ তাআলার অমূল্য উপহার । নানা পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ থাকায় স্বাস্থসচতেন সকলেরই মধুর প্রতি আছে অন্যরকম ভালোবাসা । আরবি পরিভাষায় মধুপোকা বা মৌমাছিকে ‘নাহল’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এই নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা বিদ্যমান আছে। সূরা নাহল এর ৬৯ নং আয়াত এ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- ” তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।”

রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর কাছে কোন এক সাহাবি তার ভাইয়ের অসুখের বিবরণ দিলে তিনি তাকে মধু পান করানোর পরামর্শ দেন। দ্বিতীয় দিনও এসে আবার সাহাবি বললেন- অসুখ পূর্ববৎ বহাল রয়েছে। তিনি আবারো একই পরামর্শ দিলেন। তৃতীয় দিনও যখন সংবাদ এল যে, অসুখের কোন পার্থক্য হয়নি, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন- আল্লাহর উক্তি নিঃসন্দেহে সত্য, তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যাবাদী। উদ্দেশ্য এই যে, ওষুধের কোনো দোষ নেই। রোগীর বিশেষ মেজাজের কারণে ওষুধ দ্রুত কাজ করেনি। এর পর রোগীকে আবার মধু পান করানো হয় এবং সে সুস্থ হয়ে উঠে।

মধুর নিরাময় শক্তি বিরাট ও সতন্ত্র ধরনের। কিছু সংখ্যক আল্লাহওয়ালা বুজর্গ ব্যক্তি এমনও রয়েছেন, যারা মধু সর্বরোগের প্রতিষেধক হওয়ার ব্যাপারে নিঃসন্দেহ। তারা ফোড়া ও চোখের চিকিৎসাও মধুর মাধ্যমে করেন। দেহের অন্যান্য রোগেরও চিকিৎসা মধুর দ্বারা করেন। হজরত ইবনে ওমর (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তার শরীরে ফোঁড়া বের হলেও তিনি তাতে মধুর প্রলেপ দিয়ে চিকিৎসা করতেন। এর কারণ জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন- আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কি বলেননি যে, তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। -(কুরতুবী)

সুস্বাস্থের জন্য মধুর অনন্য ভূমিকা :

১)         রোগ প্রতিরোধে মধু  : কথায় আছে রোগের প্রতিষেধকের ছেয়ে প্রতিরোধই উত্তম । নিয়মিত মধু খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । মধুতে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিব্যকটেরিয়াল উপাধান হজমে সহয়তা করে শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে । বিশেষ করে আদা ও মধু একসাথে খেলে দেহে শ্বেতরক্ত কনিকা সংখ্যা বৃদ্ধি পায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ায় ।

২)        সর্দি ও কাশিতে :  ১ চামচ আদার রস ও ১ চামচ মধু চায়ের সাথে মিশিয়ে খেলে সর্দি উপশম হবে ইনশাআল্লাহ । যদি কাশি দূর করতে চান তাহলে ১ চামচ তুলসী পাতার রসের সাথে সমপরিমান মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যে কাশি সেরে যাবে

৩)        হাড় ও দাত ভাল রাখতে : মধুতে আছে ক্যালেসিয়াম যা হাড় , দাত ও চোলের গোড়া মজবুত করে  । যাদের নখ ভেঙ্গে যায় তারা নিয়মিত মধু খেলে উপকার পাবেন ।

৪)        কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে : মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া নিরাময়ে সহায়তা করে । ভোরবেলা একটু মধু পানে কোষ্ঠবদ্ধতা ও অম্লত্ব দূর করতে সহায়তা করে ।

৫)        শারিরীক সক্ষমতা বাড়াতে : নিয়মিত মধু সেবন যৌন দুর্বলতা দূর করে একজন পুরুষকে আত্ববিশ্বাসী করে গড়ে তোলে । বাচাইকৃত ছোলা রাত্রে ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা মধুসহ খেলে সুস্থ যৌনজীবন লাভ করা যায় ।

৬)        শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় মধু সেবন : ফুসফুসের প্রায় সকল রোগেই মধু উপকার পৌছায় ।  শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মধুর সঙ্গে আদা ও গোলমরিচ খেলে উপকার পাওয়া যায় ।

৭)        স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা কমাতে : রক্ত জমাট বেধে গেলেই স্ট্রোকের প্রবণতা বেড়ে যায় । এজন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন জরুরী । আদা এবং মধু একসাথে খেলে রক্তজমাট বাধতে পারে না তাই এভাবে নিয়মিত মধু খেলে স্ট্রোকের ঝুকি অনেকটাই কমে যায় ।

৮)        চিনির উত্তম বিকল্প :নিয়মিত চিনি খাওয়ার কারনে শরীর পুষ্টিগুন ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহন করে । এভাবে চিনি খেলে স্বাভাবিকভাবেই দেহের ওজন বাড়বে যার কারনে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস হতে পারে ।এক্ষেত্রে কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া ছাড়ায় চিনির বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়া যায় ।