শারীরিক সমস্যা সমাধানে খেজুরের উপকারিতা



মরুঅঞ্চলের ফল খেজুর। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে খেজুর একটি পরিচিত ফল।আর মুসলিমদের কাছে খেজুরের প্রতি রয়েছে বিশেষ ভালোবাসা, কারণ হজরত মুহাম্মদ (সঃ) খেজুর ভালোবাসতেন পুষ্টিমানেযেমন এটি সমৃদ্ধ, তেমনিঅসাধারণ এর ঔষধিগুণ। রমজানমাস বাদে আমাদের খেজুর খাওয়ার অভ্যাসটা একটু কমই হয়ে থাকে।কিন্তু অসাধারণ পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খেজুরআমাদেরশারীরিক নানা সমস্যা দূর করতে বিশেষ ভুমিকা রাখে আর তাই গড়েপ্রত্যেকের দিনে ৫ টি খেজুরখাওয়ার অভ্যাস রাখা উচিত। তাহলেবিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন নিমিষে।

 

বিভিন্নসমস্যা সমাধানে খেজুরের গুনাগুনঃ

১)হৃদপিণ্ডের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। গবেষণায় দেখা যায় পুরোরাত খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সকালে পিষে খাওয়ারঅভ্যাস হার্টের রোগীর সুস্থতায় কাজ করে।

২) অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মের সময় খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে। ৭/৮ মাস সময় থেকে গর্ভবতী মায়েদের শরীরে অনেক দুর্বলতা কাজ করে। তখন খেজুর মায়েদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকার।

৩) খেজুর দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে সহায়ক। এবং প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস রাতকানা রোগ ভালো করতেও সাহায্য করে থাকে।

৪) খেজুর খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে খেজুর। এছাড়াও মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধেও এই ফল বেশ কার্যকরী। গবেষণায় দেখা যায় অ্যাবডোমিনাল ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে খেজুরের।

৫) নারীদের শ্বেতপ্রদর ও শিশুর রিকেট নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা অনেক। এই ক্ষেত্রে খেজুরের অবদান বলে শেষ করা যায় না।

৬) খেজুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম বিদ্যমান যা আমাদের শরীরের নার্ভ সিস্টেমকে সচল রাখার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, খেজুরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম বিদ্যমান থাকে যা মানুষের ষ্ট্রোক হওয়ার ভয়াবহতাকে ৪০% কমিয়ে দেয়।

৭) পাতলা পায়খানা বন্ধ করে, খেজুরের খাওয়ার ফলে।

৮) শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে ঝটপটখেয়ে নিন৪/৫ টি খেজুর। তাৎক্ষণিকভাবেদেহে এনার্জিসরবরাহের ক্ষেত্রেখেজুরের তুলনানেই।

 

৯) রুচিবাড়াতেও খেজুরের কোন তুলনা হই না। অনেকশিশুরা তেমন একটা খেতে চাই না, তাদেরকে নিয়মিত খেজুর খেতে দিলে রুচি ফিরে আসবে।

১০) খেজুরেআছে ডায়েটরই ফাইবার যা কলেস্টোরল থেকেমুক্তি দেয়। ফলে ওজন বেশি বাড়ে না, সঠিক ওজনে দেহকে সুন্দর রাখা যায়।

১১) খেজুর আমাদের দেহের ইন্টেস্টাইনের ভেতর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী প্যাথলজিক্যালঅর্গানিজমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে যা ইন্টেস্টাইনের নানাসমস্যাদূর করে।

১২) খেজুর ল্যাক্সাটিভ ধরণের খাবার। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তারা খুব সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। প্রতিদিনখেজুর খাওয়ার অভ্যাসের মাধ্যমেই এই সমস্যা সমাধানসম্ভব।

১৩) ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এই ফল দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

১৪) খেজুরের মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরণেরঅ্যামিনো অ্যাসিড যা সহজে খাবারহজমে সহায়তা করে। এতে করে খাবারহজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

১৫) খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং খুব অল্প পরিমাণে সোডিয়াম। এতে করে প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের খারাপ কলেস্টোরলকমায় এবং ভালো কলেস্টোরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমায়।

১৬) মুখের অর্ধাঙ্গ রোগ, পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী। খেজুর বিচি এ রোগ নিরাময়েবিশেষ ভূমিকা রাখে।

১৭) খেজুরের চুর্ণ মাজন হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হয়।

১৮) উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাট সম্পন্ন খেজুর জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী।

১৯) নেশাগ্রস্তদের অঙ্গক্ষয় প্রতিরোধ করে খেজুর। স্বাস্থ্য ভালো করতে বাড়িতে তৈরী ঘিয়ে ভাজা খেজুর ভাতের সাথে মিশিয়ে খেতেপারেন।

২০) খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি এবং এজমায় উপকারী।

২১) সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালিথাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে।


২২) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য খেজুর খুবই উপকারী।

২৩) প্রতি১০০ গ্রাম খেজুরে ৩২৪ মিলিগ্রাম ক্যালরি থাকে। ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে, তাই খেজুর শিশুদের জন্যও অনেক উপকারী একটি ফল।

২৪) মুখের লালাকে ভালোভাবে খাবারের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে খেজুর। ফলে বদহজম দূর হয়। হৃদরোগ কমাতেও খেজুর বেশ উপকারী।

২৫) খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে এবং রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকেরক্ষা করে। যাদের এই রক্তস্বল্পতার সমস্যারয়েছে তাদের প্রতিদিন খেজুর খাওর অভ্যাস করা উচিত। তাই রক্তস্বল্পতা ও শরীরের ক্ষয়রোধকরতে খেজুরেররয়েছে বিশেষ গুণ।

২৬) একটি গবেষণায় দেখা যায় প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস মাত্র ৪ সপ্তাহের মধ্যেলিপিডের কোয়ালিটি উন্নত করতে সহায়তা করে দেহের সুগারেরমাত্রা বাড়ানো ছাড়াই।

২৭) খেজুরে রয়েছে ৭৭.৫% কার্বহাইড্রেট, যা অন্যান্য খাদ্যের বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করে।

২৮) খেজুরে রয়েছে ৬৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৭.৩ মিলিগ্রাম লৌহ – যা হাড়, দাঁত, নখ, ত্বক, চুল ভালো রাখতে সহয়তা করে।

২৯) খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে  । খেজুর বাখোরমা খেলে মাথাকেএকেবারে চিন্তামুক্ত করে দেয়।